সংক্ষেপে উত্তর: পাটিসাপটা বানাতে চালের গুঁড়া, ময়দা আর দুধ দিয়ে পাতলা গোলা তৈরি করুন, আর পুরের জন্য নারকেল কোরা খেজুর গুড়ের সাথে কম আঁচে নেড়ে আঠালো করে নিন। ননস্টিক তাওয়ায় সামান্য ঘি মাখিয়ে পাতলা করে গোলা ছড়ান, ওপরের দিক শুকিয়ে এলে মাঝখানে পুর দিয়ে রোল করে নিন। গোলা হবে ঘন দুধের মতো পাতলা, আর তাওয়া মাঝারি আঁচে গরম, এই দুটোই নরম পাটিসাপটার মূল রহস্য। ১২ থেকে ১৫টি পিঠা বানাতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা।
শীতের পিঠার মধ্যে পাটিসাপটা দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমন মজার। পাতলা নরম আবরণের ভেতরে খেজুর গুড় আর নারকেলের মিষ্টি পুর, কেউ কেউ আবার দেন দুধের ঘন ক্ষীর। অনেকে মনে করেন পাটিসাপটা বানানো কঠিন, তাওয়ায় লেগে যায় বা ছিঁড়ে যায়। আসলে গোলার ঘনত্ব আর তাওয়ার তাপমাত্রা ঠিক থাকলে প্রথমবারেই সুন্দর পাটিসাপটা হয়। এই রেসিপিতে নারকেল-গুড়ের পুর আর ক্ষীরের পুর, দুই রকম পাটিসাপটাই ধাপে ধাপে দেখাচ্ছি।
পাটিসাপটা: নামের গল্প আর শীতের ঐতিহ্য
"পাটিসাপটা" নামটা এসেছে পিঠার আকার থেকে। মাদুর বা পাটির মতো পাতলা করে ছড়ানো আবরণকে সাপটে, অর্থাৎ গুটিয়ে, রোল করা হয় বলেই এই নাম। নবান্ন থেকে পৌষ সংক্রান্তি পর্যন্ত বাংলার ঘরে ঘরে এই পিঠা তৈরি হয়। গ্রামে আগে মাটির খোলায় পাটিসাপটা ভাজা হতো, এখন ননস্টিক তাওয়ায় কাজটা অনেক সহজ। পুরে কোথাও শুধু নারকেল-গুড়, কোথাও দুধের ক্ষীর, আবার কোথাও দুটোই একসাথে দেওয়া হয়। তবে যে পুরই হোক, খাঁটি খেজুর গুড় না হলে পাটিসাপটার আসল স্বাদ আসে না।
উপকরণ (১২–১৫টি পিঠার জন্য)
গোলার জন্য
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| চালের গুঁড়া | ১ কাপ |
| ময়দা | ১/২ কাপ |
| সুজি (ঐচ্ছিক, নরম ভাবের জন্য) | ২ টেবিল চামচ |
| তরল দুধ (কুসুম গরম) | ২ – ২.৫ কাপ |
| খেজুর গুড় পাউডার বা গলানো গুড় (ঐচ্ছিক) | ২ টেবিল চামচ |
| লবণ | এক চিমটি |
| ঘি বা তেল (তাওয়ায় মাখানোর জন্য) | প্রয়োজনমতো |
নারকেল-গুড়ের পুরের জন্য
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| কোরানো নারকেল | ২ কাপ (একটি বড় নারকেল) |
| খেজুর গুড় (পাটালি কুচি বা সেমি লিকুইড) | ১৫০ – ২০০ গ্রাম |
| এলাচ গুঁড়া | ১/৪ চা চামচ |
| ঘি (ঐচ্ছিক) | ১ চা চামচ |
ক্ষীরের পুরের জন্য (ঐচ্ছিক)
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| ফুল ক্রিম তরল দুধ | ১ লিটার |
| খেজুর গুড় | ৮০ – ১০০ গ্রাম |
| এলাচ | ২টি |
কোন গুড় দিয়ে পাটিসাপটা সবচেয়ে ভালো হয়
- পুরের জন্য পাটালি গুড়: নারকেলের সাথে নেড়ে নিলে সুন্দর আঠালো, সুগন্ধি পুর হয়। সবচেয়ে প্রচলিত।
- পুরের জন্য সেমি লিকুইড গুড়: দ্রুত মেশে, পুর একটু নরম ও রসালো হয়।
- গোলার জন্য গুড় পাউডার: গোলায় সামান্য মেশালে আবরণে হালকা সোনালি রং আর মিষ্টি স্বাদ আসে।
- পরিবেশনের জন্য ঝোলা গুড়: ওপরে সামান্য ঢেলে দিলে আরও মজা।
পাটিসাপটা বানানোর প্রণালী
ধাপ ১: নারকেল-গুড়ের পুর তৈরি (১৫ মিনিট)
একটি ভারী তলার কড়াইয়ে কোরানো নারকেল আর খেজুর গুড় একসাথে দিন। কম আঁচে নাড়তে থাকুন। প্রথমে গুড় গলে নারকেল ভিজে যাবে, তারপর ধীরে ধীরে পানি শুকিয়ে মিশ্রণ আঠালো হবে। এলাচ গুঁড়া আর ঘি দিয়ে আরও ২–৩ মিনিট নাড়ুন। মিশ্রণ কড়াইয়ের গা ছেড়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। পুর বেশি শুকনো করবেন না, তাহলে শক্ত হয়ে যাবে।
ধাপ ২: ক্ষীরের পুর তৈরি (ঐচ্ছিক, ৪০ মিনিট)
দুধ আর এলাচ ভারী পাত্রে জ্বাল দিন। মাঝারি আঁচে নাড়তে নাড়তে দুধ ঘন করুন, যতক্ষণ না এক-চতুর্থাংশের মতো থাকে আর মাখনের মতো ঘন হয়। চুলা বন্ধ করে ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন, তারপর গুড় মিশিয়ে নিন। গরম দুধে সরাসরি গুড় দিলে দুধ ফেটে যেতে পারে, ঠিক যেমন পায়েসের রেসিপিতে বলেছি।
ধাপ ৩: গোলা তৈরি (৫ মিনিট + ২০ মিনিট বিশ্রাম)
একটি বাটিতে চালের গুঁড়া, ময়দা, সুজি, লবণ আর গুড় পাউডার মিশিয়ে নিন। অল্প অল্প করে কুসুম গরম দুধ দিয়ে হুইস্ক বা চামচ দিয়ে ফেটিয়ে মসৃণ গোলা তৈরি করুন, যেন কোনো দলা না থাকে। গোলা হবে ঘন দুধ বা পাতলা দোসার গোলার মতো, চামচ থেকে সহজে গড়িয়ে পড়বে। ঢেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। বিশ্রামে চালের গুঁড়া ফুলে ওঠে আর পিঠা নরম হয়।
ধাপ ৪: তাওয়া প্রস্তুত
ননস্টিক তাওয়া বা ফ্রাইপ্যান মাঝারি আঁচে গরম করুন। একটি টিস্যু বা কাপড়ে সামান্য ঘি নিয়ে তাওয়ায় হালকা করে মাখিয়ে দিন। বেশি ঘি দিলে গোলা ছড়াবে না।
ধাপ ৫: পিঠা ভাজা ও রোল করা
- গোলা একবার নেড়ে নিয়ে এক হাতা (প্রায় ১/৪ কাপ) তাওয়ার মাঝখানে দিন।
- সঙ্গে সঙ্গে তাওয়া ঘুরিয়ে বা হাতার পেছন দিয়ে পাতলা গোল করে ছড়িয়ে দিন।
- ৩০–৪০ সেকেন্ড পর ওপরের দিক শুকিয়ে ম্যাট হয়ে এলে এক পাশে লম্বা করে ২ টেবিল চামচ পুর দিন।
- খুন্তি দিয়ে পুরের দিক থেকে আলতো করে রোল করুন।
- রোল করা পিঠা আরও ১৫–২০ সেকেন্ড তাওয়ায় রেখে নামিয়ে নিন। পিঠা উল্টাতে হবে না।
ধাপ ৬: পরিবেশন
গরম বা ঠান্ডা, দুভাবেই পাটিসাপটা মজা। পরিবেশনের সময় ওপরে সামান্য ঝোলা গুড় বা ক্ষীর ঢেলে দিতে পারেন।
পাটিসাপটা নষ্ট হওয়ার কারণ ও সমাধান
| সমস্যা | কারণ | সমাধান |
|---|---|---|
| তাওয়ায় লেগে যায় | তাওয়া যথেষ্ট গরম নয় বা ঘি কম | তাওয়া ভালো করে গরম করুন, প্রতিবার হালকা ঘি মাখান |
| ছিঁড়ে যায় | গোলা বেশি পাতলা বা আগেভাগে রোল | সামান্য চালের গুঁড়া মেশান, ওপরটা শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন |
| মোটা ও শক্ত হয় | গোলা ঘন | অল্প দুধ মিশিয়ে পাতলা করুন |
| গোলা ছড়ায় না, দলা হয় | তাওয়া বেশি গরম বা বেশি ঘি | আঁচ কমান, ঘি কম দিন |
| পুর শক্ত | বেশি সময় নাড়া হয়েছে | পরের বার একটু আগে নামান, শক্ত পুরে অল্প দুধ মিশিয়ে গরম করুন |
বাড়তি টিপস
- প্রথম পিঠা পরীক্ষা: প্রথম পিঠাটা প্রায়ই ঠিক হয় না। এটা দিয়ে গোলার ঘনত্ব আর আঁচ ঠিক করে নিন।
- প্রতিবার গোলা নাড়ুন: চালের গুঁড়া তলায় জমে যায়, তাই প্রতিটি পিঠার আগে একবার নেড়ে নিন।
- আগে থেকে পুর: নারকেল-গুড়ের পুর আগের দিন বানিয়ে ফ্রিজে রাখা যায়।
- রঙিন পাটিসাপটা: গোলায় সামান্য গুড় পাউডার দিলে হালকা সোনালি রং আসে।
- বাসি পিঠা: ফ্রিজে ঢেকে রাখলে ১–২ দিন ভালো থাকে। খাওয়ার আগে তাওয়ায় হালকা গরম করুন।
পাটিসাপটার তিনটি জনপ্রিয় ভিন্নতা
- দুধে ভেজানো পাটিসাপটা: তৈরি পাটিসাপটা ঘন, গুড় মেশানো দুধে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। নরম, রসালো আর অনেকটা দুধ পুলির মতো স্বাদ হয়।
- ক্ষীর-নারকেল মিশ্র পুর: নারকেল-গুড়ের পুর আর ঘন ক্ষীর সমান ভাগে মিশিয়ে পুর দিন। স্বাদ আরও সমৃদ্ধ হয়।
- রুটিলা পাটিসাপটা: ঝটপট বানাতে পুরের বদলে রুটিলা ক্রিম পাতলা করে মাখিয়ে রোল করুন। বাচ্চাদের খুব পছন্দ।
পিঠা উৎসবের জন্য পরিমাণের হিসাব
| পিঠার সংখ্যা | চালের গুঁড়া | নারকেল | খেজুর গুড় (পুর) |
|---|---|---|---|
| ১২–১৫টি | ১ কাপ | ১টি বড় | ১৫০–২০০ গ্রাম |
| ২৫–৩০টি | ২ কাপ | ২টি | ৩০০–৪০০ গ্রাম |
| ৫০–৬০টি | ৪ কাপ | ৪টি | ৬০০–৮০০ গ্রাম |
শীতের আরও পিঠা: ভাপা পিঠা, দুধ পুলি ও চিতই পিঠা।
খাঁটি গুড়েই আসল পাটিসাপটা
পাটিসাপটার পুরের স্বাদ পুরোপুরি নির্ভর করে গুড়ের ওপর। চিনি মেশানো গুড়ে পুরে খেজুরের সুবাস আসে না, আর রং হয় কৃত্রিম। Root Foods-এর খেজুর গুড় তৈরি হয় নাটোরের বড়াইগ্রামের হারোয়ায় নিজস্ব কারখানায়।
- BSTI ও BCSIR অনুমোদিত, ল্যাব টেস্টেড
- কোনো কৃত্রিম রং বা প্রিজারভেটিভ নেই
- ২০০৮ সাল থেকে, ৭০ হাজারের বেশি পরিবারের আস্থা
- আগোরা, ইউনিমার্ট, মেট্রো মার্টসহ বড় সুপারশপে পাওয়া যায়
আমাদের সনদগুলো দেখুন: সার্টিফিকেশন পেজ।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
পাটিসাপটা তাওয়ায় লেগে যায় কেন?
তাওয়া যথেষ্ট গরম না হলে বা ঘি একেবারে না দিলে লেগে যায়। ননস্টিক তাওয়া মাঝারি আঁচে গরম করে প্রতিবার টিস্যু দিয়ে হালকা ঘি মাখান।
ময়দা ছাড়া কি পাটিসাপটা বানানো যায়?
হ্যাঁ, শুধু চালের গুঁড়া দিয়েও হয়, তবে পিঠা একটু ভঙ্গুর হয়। দুই টেবিল চামচ সুজি মেশালে ভালো জোড়া লাগে।
পাটিসাপটার পুরে কোন গুড় ভালো?
পাটালি গুড় বা সেমি লিকুইড খেজুর গুড়। দুটোতেই সুগন্ধি, আঠালো পুর হয়।
পাটিসাপটা কতদিন রাখা যায়?
ঢেকে ফ্রিজে রাখলে ১–২ দিন। খাওয়ার আগে তাওয়ায় হালকা গরম করে নিন।
পাটিসাপটার গোলা কি আগে থেকে বানিয়ে রাখা যায়?
হ্যাঁ, ঢেকে ফ্রিজে কয়েক ঘণ্টা রাখা যায়। ব্যবহারের আগে ভালো করে নেড়ে নিন, ঘন হয়ে গেলে অল্প দুধ মেশান।
গোলা কতটা পাতলা হবে?
ঘন দুধের মতো, চামচ থেকে সহজে গড়িয়ে পড়বে কিন্তু পানির মতো পাতলা নয়।
পিঠার জন্য খাঁটি খেজুর গুড় অর্ডার করুন
নাটোরের নিজস্ব কারখানা থেকে। পিঠা উৎসবের আগে আগেভাগে অর্ডার করুন, সারা দেশে ক্যাশ অন ডেলিভারি।
পুরের জন্য পাটালি গুড় · সেমি লিকুইড গুড় · সব ধরন দেখুন
ফোন/হোয়াটসঅ্যাপ: 01882115515 · ইমেইল: contact@rootfoods.com.bd



