রুট ফুডসের গল্প
শীতের ভোরগুলো একটু অদ্ভুত।
কুয়াশা এত ঘন থাকে যে মনে হয়, পৃথিবীটা এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি। শুধু একজন মানুষ জেগে আছেন। গাছি।
নাটোরের হারোয়ার কোনো এক গ্রামে তিনি খেজুর গাছ থেকে রসের হাঁড়ি নামাচ্ছেন। ঠান্ডায় হাত জমে আছে। মুখে কোনো কথা নেই। গাছিরা সাধারণত কম কথা বলেন। তাঁরা রসের হাঁড়ির দিকে এমনভাবে তাকিয়ে থাকেন, যেন হাঁড়িটাই তাঁদের সঙ্গে কথা বলছে।
তাঁকে যদি জিজ্ঞেস করেন, "চাচা, রসে একটু চিনি মিশালে কী হয়?"
তিনি হয়তো কিছুক্ষণ চুপ করে থাকবেন। তারপর একটু হেসে বলবেন, "রসের সঙ্গে বেইমানি করা যায় না, বাবা।"
আমাদের গল্পটা আসলে এই একটা কথা নিয়েই।
আমাদের সবার ছোটবেলায় একটা রান্নাঘর ছিল। সেই রান্নাঘরে মা ছিলেন। মা কখনো খাবারের লেবেল পড়তেন না। পড়ার দরকারও হতো না। ঘি মানে ছিল ঘি। গুড় মানে ছিল গুড়। মা জানতেন কোন জিনিস কোথা থেকে আসে।
এখন সময় বদলেছে। বাজারে সবকিছু পাওয়া যায়। ঝকঝকে প্যাকেট, সুন্দর ছবি, বড় বড় কথা।
শুধু একটা জিনিস পাওয়া কঠিন। নিশ্চিন্ত হওয়া।
ভেজাল জিনিসটা খুব চালাক। সে দেখতে একেবারে আসল জিনিসের মতো। গন্ধও প্রায় এক। তফাতটা ধরা পড়ে অনেক পরে, যখন আর কিছু করার থাকে না।
২০০৮ সালে রুট ফুডস শুরু হয়েছিল খুব সাধারণ একটা প্রশ্ন দিয়ে:
"এই খাবারটা কি আমি নিজের পরিবারকে খাওয়াতে পারব?"
উত্তর যদি "না" হয়, সেই খাবার আমরা বিক্রি করি না। এর বাইরে আমাদের আর কোনো নিয়ম নেই। বাকি সব নিয়ম এই একটা নিয়ম থেকেই এসেছে।
তাই আমরা কৃষক আর গাছিদের কাছে যাই। মাঠ দেখি, মাটি দেখি, মানুষগুলোকে চিনি। নাটোরে আমাদের নিজেদের কারখানায় প্রতিটি ব্যাচ পরীক্ষা করা হয়। কোনো ব্যাচ মন মতো না হলে সেটা বাজারে যায় না। লোকসান হয়, হোক। মানুষের বিশ্বাস ভাঙার চেয়ে লোকসান অনেক সস্তা।
একটা সত্যি কথা বলি। আমাদের খাঁটি খেজুর গুড় আবহাওয়া বদলালে কখনো কখনো একটু টক হয়ে যেতে পারে। আমরা এটা লুকাই না। কারণ যে গুড়ে কোনো কেমিক্যাল নেই, সে প্রকৃতির নিয়ম মেনেই চলে। প্রকৃতি মাঝে মাঝে একটু অভিমানী হয়। আমরা সেই অভিমান মেনে নিয়েছি।
আজ রুট ফুডসের খাবার আগোরা, ইউনিমার্ট, মেট্রো মার্টের মতো সুপারশপের তাকে আছে। দারাজ, আরোগ্য, রকমারিতে আছে। অনলাইনে প্রায় বিশ হাজার পরিবার আমাদের ওপর ভরসা রেখেছে।
এই সংখ্যাটা আমরা গর্ব করে বলি না। ভয় নিয়ে বলি। বিশ হাজার পরিবার মানে বিশ হাজার রান্নাঘর। বিশ হাজার মা, যাঁরা আমাদের বিশ্বাস করে সন্তানের পাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন।
এই দায়িত্ব খুব ভারী। আমরা সেটা প্রতিদিন কাঁধে নিয়ে ঘুম থেকে উঠি।
খাঁটি খাবার আসলে খুব সাধারণ একটা জিনিস। মায়ের হাতের এক থালা ভাতের মতো। এতে কোনো জাদু নেই, কোনো বড় কথা নেই।
আমরা শুধু চাই, সেই সাধারণ জিনিসটা যেন হারিয়ে না যায়।
শীতের কোনো এক ভোরে, কুয়াশার ভেতর, একজন গাছি এখনো রসের হাঁড়ি নামাচ্ছেন। তিনি বেইমানি করছেন না।
আমরাও করব না।
— রুট ফুডস টিম
Pure Goodness, Naturally